লােককথার সংজ্ঞা, লােককথার পরিচয় | লােককথার অন্যতম শাখা রূপকথা | লােককথার অন্যতম শাখা ব্রতকথা

লােককথার সংজ্ঞা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার লােককথার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।


লােককথা: জাতির অভিজ্ঞতা, আত্মসন্ধান, গৌরববােধ, স্বদেশচেতন, স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের চেতনা যখন ব্যক্তিমানুষের প্রতিভা আর কল্পনার লােকোত্তর বিস্তারে স্মৃতিরূপ লাভ করে, তখন তাকেই লােককথা বলা হয় মনে রাখা দরকার, লােককথা প্রধানত তিনির্ভর। লােককথা সাধারণত গদ্যে রচিত, পদ্যে যখন তা রচিত হয় তখন তাকে বলে গীতিকা।


বিভিন্ন লােককথা: লােককথার একটি ধারা পশুকথা। এখানে জীবজন্তু বা পশুপাখিই প্রধান। জীবজন্তুর সঙ্গে মানবপ্রকৃতিকে মেলানাে হয়েছে এই সব গল্পে। রূপকথায় সম্পূর্ণ অবাস্তব পরিবেশে কল্পিত চরিত্রের সমাবেশে কাহিনিকে ফুটিয়ে তােলা হয়। লােককথার বিশিষ্ট শাখা ব্রতকথা। এগুলির অবলম্বন বাংলার লৌকিক দেবতারা। অনিষ্টকারী দেবতাকে খুশি করে তার আশীর্বাদে কল্যাণ লাভের বিশ্বাস থেকেই এই ব্রতকথাগুলির জন্ম। লােককথার আরেকটি শাখা রােমাঞ্চকথা (novella)। এখানে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সীমা ছিন্ন করা নানা অসম্ভব ঘটনার সমাবেশ ঘটে। পুরাণকথা প্রাচীন পুরাণগুলির থেকে অনেকটাই আলাদা। এটি আদ্যন্ত লােককথা। যদিও এখানেও সৃষ্টিতত্ত্ব, মানুষের বিবর্তন, ধর্মের আবির্ভাব, লােকাচার ইত্যাদিই বিষয় হয়ে উঠেছে। লােককথার আরেকটি ধারাও প্রচলিত আছে যার নাম স্থানিক কথা (sage)। কোনাে একটি স্থানের উপর ভিত্তি করে রচিত এই জাতীয় কাহিনিতেও নানা অবাস্তব বিষয়ের মিশ্রণ ঘটে।



লােককথার অন্যতম শাখা রূপকথা সম্পর্কে আলােচনা করাে।


বাংলা রূপকথার ইংরাজি প্রতিশব্দ অনেকে fairy tale করলেও তা যথাযথ নয়, কারণ fairy কথাটির অর্থ পরি। আর বাংলা রূপকথায় পরির জায়গা নেই। বরং জার্মান 'Marchen'-কে বাংলা রূপকথার ভাবানুসারী বলা যায়। 'Marchen' এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- "It moves in an unreal world without definite locality or definite characters filled with the marvellous. In this never-never land humble heroes kill adversaries, succeed to kingdoms, and marry princesses"। রূপকথায় থাকে রাক্ষস-খােক্কস, আর রাজপুত্র এদেরকে বধ করে রাজকন্যা আর অর্ধেক রাজত্ব অধিকার করে।


অবাস্তব এবং অদ্ভুত পরিবেশ সৃজন, চরিত্রসমূহের অস্পষ্টতা, আয়তনের দীর্ঘতা এবং কাহিনির জটিলতা রূপকথার বৈশিষ্ট্য। রূপকথার কোনাে চরিত্রেরই কোনাে নাম নেই—কেবল রাজা, রাজপুত্র, রানি ইত্যাদি হল তাদের পরিচয়। কোনাে রাজ্যেরও নাম নেই—কেবল থাকে কোনাে-এক দেশের রাজার উল্লেখ। ঘুরেফিরে আসে তেপান্তরের মাঠ, আর তিরপনির ঘাট। কিন্তু সেগুলি কোথায় তা কেউ জানে না। এই অনির্দিষ্টতাই রূপকথাকে সর্বজনীন করে তুলেছিল। বাংলা রূপকথায় রাজাদের একাধিক স্ত্রী থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। নিয়তি বা ভাগ্য বাংলা রূপকথায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অধিকার করে থাকে। যেমনকাজলরেখার কাহিনি। আবার প্রেমও বাংলা রূপকথায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে অনেকক্ষেত্রে। যেমন- মধুমালা বা শঙ্খমালার কাহিনি।



লােককথার অন্যতম শাখা ব্রতকথা বিষয়ে আলােচনা করাে।


বাংলার ব্রতকথাগুলি বাংলার লৌকিক দেবদেবীদের অবলম্বন করে লেখা হয়েছে। এই ব্রতকথাগুলি হল উচ্চতর সংস্কৃতি ও আদিম সংস্কারগুলির মিশ্রণের ফল। অনিষ্টকারী কোনাে দেবতাকে সন্তুষ্ট করে তার দ্বারা কল্যাণ সাধন করাই বাংলার ব্রতকথাগুলির উদ্দেশ্য। ব্রতকথায় দোষগুণ-সমন্বিত মানবরূপেই দেবতাদের আবির্ভাব ঘটে। সুখ-দুঃখ, প্রতিহিংসা, হাসিকান্নার অনুভূতি এই দেবতাদের মধ্যে দেখা যায়। ব্রতকথার দেবতাদের সঙ্গে মঙ্গলকাব্যের দেবতাদের ভাবগত অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। নিতান্ত পার্থিব জীবনই ব্রতকথার বিবেচ্য, দেবদেবীরাও তার সঙ্গেই যুক্ত। গার্হস্থ্য সুখসমৃদ্ধির সন্ধানই ব্রতকথার লক্ষ্য। কখনাে কখনাে রূপকথাকে কিছুটা পরিবর্তিত করে ব্রতকথার আকার দেওয়ার চেষ্টাও লক্ষ করা যায়। যেমন সঙ্কটার ব্রতকথা।


কিছু ব্রতকথায় আবার নিয়তি বা ললাটলিপির গুরুত্ব আরােপিত হয়েছে দেবদেবীর পরিবর্তে। ব্রতকথায় চরিত্র ভাবনায় অভিনবত্ব পাওয়া যায় না। সৌভাগ্যের প্রতীক হয়ে আসেন রাজা কিংবা সদাগর। আর দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে আসেন বামুন, যিনি হয় দরিদ্র না-হয় ভিক্ষুক। ব্রতকথার ভাবনা খুব উঁচু না হলেও বাঙালির গার্হস্থ্য জীবন এখানে অসাধারণভাবে প্রকাশ পেয়েছে। স্বামীর সৌভাগ্য, সন্তানসুখ নারীর এইসব কামনাই ব্রতকথার মধ্যে প্রকাশিত হয়। বাংলার কয়েকটি উল্লেখযােগ্য ব্রত হল 'পুণ্যিপুকুর ব্রত', 'বসুধারা ব্রত', 'সেঁজুতি ব্রত', 'হরিচরণ ব্রত', 'সুবচনি ব্রত' ইত্যাদি।


ছড়ার সংজ্ঞা দিয়ে লােকসাহিত্যে ছড়ার বিশিষ্টতা আলােচনা করাে।

বাংলায় ঘুমপাড়ানি ছড়াগুলির বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে লেখাে।

বাংলা ‘ছেলেভুলানাে ছড়া’ গুলির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যা জান লেখাে।

'খেলার ছড়া' গুলি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলােচনা করাে।


ধাঁধা বলতে কী বােঝ? ধাঁধার সঙ্গে শিক্ষা ও উপদেশ প্রদানের বিষয়টি কীভাবে জড়িত বুঝিয়ে দাও।

ধাঁধায় বাঙালির গার্হস্থ্য জীবনের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় আলােচনা করাে।

প্রবাদের সঙ্গে ধাঁধার পার্থক্য কোথায়?

প্রবাদের সংজ্ঞা দিয়ে এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি আলােচনা করাে।


প্রবাদ ও প্রবচন বলতে কী বােঝ? অন্তত চারটি বাংলা প্রবাদের উদাহরণ দাও।

বাংলা প্রবাদের গঠনবৈশিষ্ট্য আলােচনা করাে।

বাংলা প্রবাদের বৈচিত্র্য বিষয়ে আলােচনা করাে।

বাংলা প্রবাদে সমাজ বাস্তবতার যে প্রকাশ ঘটেছে তা নিজের ভাষায় আলােচনা করাে।