এখানেই শুরু হল তাঁর প্রকৃত বিজ্ঞানীর জীবন | ভেনিস রাষ্ট্র এবং পাড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গালিলিও-র আঠারাে বছরের কর্মজীবনের বিবরণ | দূরবিনের আবিষ্কার ভেনিসনিবাসী গালিলিওর জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত

প্রথম যৌবনে স্বদেশে থাকাকালীন সংসার চালানাের জন্য কীভাবে লড়াই করতে হয়েছিল গালিলিও-কে, তা গালিলিও প্রবন্ধ অবলম্বনে লেখাে।


সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ‘গালিলিও' প্রবন্ধে জানা যায়, প্রথম যৌবনে গালিলিওকে জীবিকার জন্য প্রবল লড়াই করতে হয়েছিল। গালিলিওর পিতা গালিলিও এবং তার পরিবারের অন্য সবাইকে নিয়ে পিসা থেকে যখন ফ্লোরেন্সে চলে আসেন, তখন সদ্যযুবক গালিলিও তাস্কানী রাজসভার সভাপণ্ডিত এক গণিতবিদের কাছে গণিতশাস্ত্র এবং পদার্থবিদ্যার পাঠ নিতে শুরু করেন। অভাবনীয় মেধা এবং অধ্যবসায়ের দ্বারা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গালিলিও গণিতশাস্ত্র এবং পদার্থবিদ্যায় এমন বিস্ময়কর ব্যুৎপত্তি লাভ করলেন যে, তিনি তাঁর শিক্ষককেও এই দুটি বিষয়ে অতিক্রম করে গেলেন। এরপর স্বাধীনভাবে জ্ঞানচর্চা এবং অর্থোপার্জনে মনােযােগী হলেন গালিলিও। এসময় তিনি গৃহশিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু সেসময় ছাত্র পড়ানােতে আয় হত সামান্যই। এমন সময়েই, ১৫৮৮ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকে, বার্ষিক যাট scudi বেতনে পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের অধ্যাপকের চাকরি নিয়ে তিনি পিসায় চলে যান। পিতার মৃত্যু হলে পরিবারের সমস্ত দায়দায়িত্ব গালিলিওর ওপরেই এসে পড়ে। এই সময় তার ছােটোভাই মাইকেল এনজেলাের স্ত্রী এবং তাঁদের সাত সন্তানের ভরণ-পােষণের দায়িত্বও এসে পড়ে গালিলিওর ওপর। সংসার চালানাের জন্যই এই মহানুভব ব্যক্তিই কখনও ব্যাবসা করতে চেয়েছেন, আবার ভালাে চাকরির জন্য নানা জায়গায় উমেদারি করেছেন বা কর্মস্থল পরিবর্তন করেছেন।



‘গালিলিও' প্রবন্ধ অবলম্বনে ভেনিস রাষ্ট্র এবং পাড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গালিলিও-র আঠারাে বছরের কর্মজীবনের বিবরণ দাও।


বিজ্ঞানাচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু রচিত গ্যালিলিও প্রবন্ধে আমরা দেখি যে, ১৫৯১ খ্রিস্টাব্দে পিতার মৃত্যুর পর আর্থিক দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যখন ফ্লোরেন্সে পরিবারসহ কোনােরকমে দিন অতিবাহিত করছিলেন গালিলিও, তখনই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভেনিস-এর কর্তাব্যক্তিরা তাকে পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের অধ্যাপকের চাকরি দেন। ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে, মাত্র আঠাশ বছর বয়সে ভেনিস রাষ্ট্রে পাড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অধ্যাপনা শুরু করেন। পাশাপাশি, ভেনিস নগরী রক্ষার নানা ব্যাপারে পরামর্শদাতাও হয়ে ওঠেন তিনি। বিজ্ঞানের গবেষণা এবং পরীক্ষানিরীক্ষাও পুরােদমে এখান থেকেই শুরু করেন গালিলিও। আবার প্রতি গ্রীষ্মে নিজের দেশ ও সবচেয়ে প্রিয় শহর ফ্লোরেন্সে এসে সেখানকার ডিউকের পুত্র, তাঁর প্রিয় ছাত্র, কসমােকে তিনি পড়াতেন। ছাত্র কসমাের মা অর্থাৎ রানিমা জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাসী থাকায় তাঁর মন জোগাতে গালিলিওকে ভবিষ্যৎগণনাও করতে হয়েছে টলেমীয় পন্থায়। তিনি নিজে কোপারনিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্ববিন্যাসে গভীরভাবে আস্থাবান ছিলেন। এমনকি, পাড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এসময় তিনি কোপারনিকাসের মতবাদের পক্ষে জনবহুল সভায় একের পর এক মনােজ্ঞ বক্তৃতাও দেন। ভেনিস রাষ্ট্রে তার এই বৈপ্লবিক মতবাদের কোনােরূপ বিরুদ্ধতা হয়নি বলেই ভেনিস সরকার ১৬০৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর পাড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার মেয়াদ আরও ছয় বছর বাড়িয়ে দেন।



দূরবিনের আবিষ্কার ভেনিসনিবাসী গালিলিওর জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল?


সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ‘গালিলিও’ প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, ১৬০৯ খ্রিস্টাব্দে এক ওলন্দাজ দূরের জিনিসকে বড় করে দেখানাের একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন শুনে ভেনিস-প্রবাসী গালিলিও কাগজে পরিকল্পনা এঁকে, আলাের গতিপথ বিচার করে কিছুদিনের মধ্যেই দূরবিন তৈরি করে ফেলেন। গালিলিওর দূরবিনটি ছিল পূর্বনির্মিত যন্ত্র থেকে আরও উন্নতমানের এবং শক্তিশালী। তা ছাড়া ওলন্দাজ ব্যক্তিটির তৈরি যন্ত্রে সবকিছু উলটো দেখালেও গালিলিওর দূরবিনে তা যথাযথই দেখাত।


ভেনিস রাষ্ট্রের শাসকদের কাছে গালিলিওর মর্যাদা বাড়ায় এই দূরবিন। ব্যাবসা বাণিজ্যে উন্নত, সমৃদ্ধশালী নগররাষ্ট্র ভেনিসের শাসকরা বহিঃশত্রুর আক্রমণের হাত থেকে নিজেদের নৌবহরকে রক্ষা করার জন্য প্রতিটি যুদ্ধজাহাজে একটি করে দূরবিন রাখার পরিকল্পনা করে। ফলে গালিলিও প্রচুর পরিমাণে দূরবিন তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে দূরবিনের সাহায্যে ক্রমে ক্রমে তিনি চাদের পাহাড়, ছায়াপথের প্রকৃতি, পৃথিবীর একটি উপগ্রহ, বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ, ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করেন। ভেনিসের ধর্মভীরু পণ্ডিতরা অবশ্য বলেন দূরবিনের সাহায্যে গালিলিও যা- যা কিছু দেখছেন, তা প্রকৃতপক্ষে যন্ত্রেরই কারসাজি। অথচ, তার এইসব আবিষ্কারের জন্যই দেশেবিদেশে ক্রমশ তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। সুতরাং, দূরবিনের আবিষ্কার প্রবাসী গালিলিওর জীবনে অর্থ এবং প্রশংসার বন্যা নিয়ে এসেছিল।



"এখানেই শুরু হল তাঁর প্রকৃত বিজ্ঞানীর জীবন।" -প্রকৃত বিজ্ঞানীর’ সেই জীবন বর্ণনা করাে।


সত্যেন্দ্রনাথ বসুর গালিলিও প্রবন্ধ থেকে গৃহীত এই উদ্ধৃতিটিতে গালিলিওর প্রতিবেশীনগররষ্ট্র ভেনিস-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানকার পাড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের অধ্যাপকরূপে তিনি যােগদান করেন ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে। এই সময়েই গালিলিও কোপারনিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্ব মতবাদে সম্পূর্ণ বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এবং পাড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোপারনিকাসের মতবাদের সপক্ষে শ্রোতা-পরিপূর্ণ-সভাগৃহে একের পর এক বক্তৃতা দিতে থাকেন। এরপর ১৬০৯ খ্রিস্টাব্দে এক ওলন্দাজ একটি অভিনব যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন খবর পেয়ে গালিলিও কাগজে পরিকল্পনা এঁকে, আলাের রেখাপথ বিবেচনা করে কিছুদিনের মধ্যেই দূরবিন যন্ত্র তৈরি করে ফেলেন। ব্যবসাবাণিজ্যে উন্নত, সমৃদ্ধশালী নগররাষ্ট্র ভেনিসের শাসকরা প্রতিটি যুদ্ধজাহাজে একটি করে দূরবিন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গালিলিও প্রচুর পরিমাণ দূরবিন তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর এর ফলে তিনি যেমন প্রভূত অর্থ উপার্জন করতে লাগলেন, তেমনি তার দূরবিনের মান এবং কার্যক্ষমতাও ক্রমে বৃদ্ধি পেতে লাগল। শুধু তাই-ই নয়, এই দূরবিনের সাহায্যেই ক্রমে ক্রমে তিনি চাঁদের পাহাড়, ছায়াপথের প্রকৃতি, পৃথিবীর একটি উপগ্রহ, বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ ইত্যাদি আবিষ্কার করতে লাগলেন। ভেনিসের বাইরে সমগ্র ইউরােপে গালিলিওর নাম ছড়িয়ে পড়ল।


“আমাদের কিন্তু দশদিন হয়ে গেছে—ফাঁড়া কেটে গেছে।" -মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করাে।

"সেকেন্ড কেলাসের লােকগুলির বড়ােই উৎসাহ।” হাঙর শিকার প্রবন্ধটি অবলম্বনে এই উৎসাহের পরিচয় দিয়ে এদের চরিত্রের যে যে দিকগুলি রচনাটিতে প্রকাশ পেয়েছে তার বিবরণ দাও।

"রক্ত-মাখা গায়-কাপড়ে ফৌজি যাত্রী কড়িকাঠ উঠিয়ে দুম দুম দিতে লাগলাে হাঙ্গরের মাথায়" -উদ্ধৃত অংশটির মধ্য দিয়ে ফৌজি চরিত্রের কোন দিক প্রতিফলিত হয়েছে? এর পরবর্তী অংশের বর্ণনা ও প্রতিক্রিয়া আলােচ্য পাঠ্যাংশে যেভাবে ফুটে উঠেছে তা লেখাে।

“কিন্তু যখন ওসব কিছুই হল না" -এখানে কী না হওয়ার কথা বলা হয়েছে তা সপ্রসঙ্গ আলােচনা করাে।


"কী ধপাৎ করেই জাহাজের উপর পড়ল।" -এরপর কী হল?

সুয়েজখালে : হাঙ্গর শিকার রচনাটিতে হাঙরটিকে জাহাজের উপরে তােলার দৃশ্যটি বর্ণনা করাে।

"আগে যান ভগীরথ শঙ্খ বাজাইয়ে, পাছু পাছু যান গঙ্গা…" -মন্তব্যটির পৌরাণিক প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কাহিনিতে এর উল্লেখের প্রাসঙ্গিকতা বিচার করাে।

“জাহাজে খালাসী বেচারাদের আপদ আর কি!” প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জাহাজের খালাসীদের বেচারা বলার কারণ লেখাে।


"স্বর্গে ইঁদুর বাহন প্লেগ পাছে ওঠে, তাই এত আয়ােজন।" -উদ্ধৃত অংশটির মধ্য দিয়ে লেখক কী বলতে চেয়েছেন?

"গতস্য শােচনা নাস্তি" -কথাটির আক্ষরিক অর্থ উল্লেখ করে সপ্রসঙ্গ মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করাে।

"যাক, ওটা কেটে দাও, জলে পড়ুক, বােঝা কমুক;...।” ঘটনাটি সংক্ষেপে লিখে হাঙর শিকারের ক্ষেত্রে নৃশংসতার প্রসঙ্গটি বিবৃত করাে।

স্বামী বিবেকানন্দের সুয়েজখালে :হাঙ্গর শিকার রচনা অবলম্বনে জাহাজযাত্রীদের হাঙর শিকারের প্রস্তুতির বিবরণ দাও।


“আড়কাটী মাছকে উপযুক্ত শিক্ষা দিলে কিনা তা খবর পাইনি...।" -প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ঘটনাটির বর্ণনা দাও। আড়কাটী মাছ’-এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

“কাজেই রাতেও যাওয়া হবে না, চব্বিশ ঘণ্টা এইখানে পড়ে থাকো...।" -রাতে না গিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা পড়ে থাকার কারণ বিশ্লেষণ করাে।

সুয়েজখালে :হাঙ্গর শিকার রচনায় জাহাজের যাত্রীদের সঙ্গে মিশরীয় অধিবাসীদের যাতে কোনাে ছোঁয়াছুঁয়ি না হয়, তার জন্য কী কী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?

হাকাহাকির চোটে আরব মিঞা চোখ মুছতে মুছতে উঠে দাঁড়ালেন। আরব মিঞার কর্মতৎপরতার পরিচয় দাও।


ভারতের বাণিজ্যকে লেখক মানব-জাতির উন্নতির সম্ভবত সর্বপ্রধান কারণ বলেছেন কেন?

“এ কথা ইউরােপীয়েরা স্বীকার করতে চায় না;" -কোন কথা ইউরােপীয়রা স্বীকার করতে চায় না এবং কেন?

“জাহাজের পেছনে বড়াে বড়াে হাঙ্গর ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছে।" -লেখকের অনুসরণে হাঙরের সেই ভেসে ভেসে বেড়ানাের দৃশ্য নিজের ভাষায় বর্ণনা করাে।

সুয়েজখালে জাহাজ পারাপারের ব্যবস্থা বর্ণনা করাে।


ভারতের শ্রমজীবী সম্পর্কে লেখকের মনােভাব ব্যাখ্যা করাে।

“যাঃ, টোপ খুলে গেল! হাঙ্গর পালালাে।" -টোপ খুলে হাঙর কীভাবে পালিয়েছিল তা রচনা অবলম্বনে লেখাে।


‘গালিলিও’ প্রবন্ধ অবলম্বন করে গালিলিও-র চরিত্রের প্রতিবাদী সত্তার পরিচয় দাও।

গ্যালিলিও প্রবন্ধে বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু গালিলিওর আপসকামী মনােভাবের যে পরিচয় দিয়েছেন তা নিজের ভাষায় লেখাে।

‘গালিলিও’ প্রবন্ধ অবলম্বন করে গালিলিওর জন্মস্থান পিসায় অতিবাহিত হওয়া তার ছেলেবেলার পরিচয় দাও।

“গণিতের অধ্যয়নবাসনাই প্রবল হয়ে উঠল।" -প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলাে কীভাবে গালিলিওর গণিতের অধ্যয়ন- বাসনা প্রবল হয়ে উঠেছিল?