তামিল ও মালয়ালম ভাষার পরিচয় | দ্রাবিড় ভাষাবংশের বিস্তৃত আলােচনা | মুণ্ডিক বা কোলারিয়ান ও মােন-খমের পরিচয় | অস্ট্রিক ভাষাবংশের অস্ট্রোনেশীয় ভাষা শাখাটির পরিচয়

অস্ট্রিক ভাষাবংশ এবং অস্ট্রিক ভাষাভাষীদের সাধারণ পরিচয় দাও। অস্ট্রিক ভাষাবংশের অস্ট্রোনেশীয় (Austronesian) ভাষা শাখাটির পরিচয় দাও।


পৃথিবীর অন্যতম একটি ভাষাবংশ হল অস্ট্রিক। অস্ট্রিক (Austric) ভাষাবংশের অপর নাম দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় (South-East Asiatic) ভাষাবংশ। অস্ট্রিক ভাষাভাষীরাই ভারতের প্রাচীন অধিবাসী। তাই সারা ভারত জুড়ে অস্ট্রিক গােষ্ঠীর মানুষেরা এবং তাদের অন্তত ৬৫টি পৃথক ভাষা ছড়িয়ে আছে। অস্ট্রিক ভাষাবংশের দুটি শাখা। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার শাখা অস্ট্রো-এশিয়াটিক (Austro-Asiatic) এবং দক্ষিণ দ্বীপের শাখা অস্ট্রোনেশীয় (Austronesian)। ল্যাটিন 'আউস্টের' (Auster) শব্দের অর্থ 'দক্ষিণ প্রান্ত' বলে সেই শব্দজাত 'অস্ট্রিক' শব্দের অর্থ 'দক্ষিণদেশীয় জাতি'।


অস্ট্রিক ভাষাবংশের দক্ষিণ দ্বীপের শাখার নাম অস্ট্রোনেশীয়। অস্ট্রিক শাখার অস্ট্রোনেশীয় উপশাখার ভাষাগুলি মূলত ছড়িয়ে আছে ভারতের বাইরে। এই উপশাখার উল্লেখযােগ্য ভাষাগুলি হল মালয় (Malay), যবদ্বীপীয় (Javanese), বালিদ্বীপীয় (Balinese), মাওরি (নিউজিল্যান্ডের উপজাতি বিশেষের ভাষা) ইত্যাদি। মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন এবং ফিজি ইত্যাদি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে এইসব ভাষা প্রচলিত। এই উপশাখার অপর নাম হল মালয়-পলিনেশীয় (Malaya Polynesian) উপশাখা। ইন্দোনেশিয়ায় প্রচলিত বাহাসা ইন্দোনেশীয় (Bahasa Indonesian ) ভাষা এই পরিবারের আধুনিক ভাষা।



ভারতে প্রচলিত অস্ট্রিক ভাষার উপশাখাটির নাম কী? এই উপশাখাটির বিস্তৃত পরিচয় দাও।


ভারতে প্রচলিত অস্ট্রিক-এর উপশাখাটি হল অস্ট্রো-এশিয়াটিক। অস্ট্রো-এশিয়াটিক-এর দুটি ধারা—

  • পশ্চিমা ধারা মুণ্ডিক বা কোলারিয়ান এবং 

  • মধ্যদেশীয় ধারা মােন-খমের।


মুণ্ডিক বা কোলারিয়ান: মুণ্ডিক বা কালারিয়ান ধারার অন্তর্গত ৫৮টি ভাষার মধ্যে উল্লেখযােগ্য হল ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে শবর; মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে কোরকু; বিহার, ওড়িশা ও মধ্যপ্রদেশে খাড়িয়া; বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে সাঁওতালি ও মুণ্ডারি; বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় ভূমিজ ও হাে ভাষা। এই গােষ্ঠীর অন্যতম প্রধান ভাষা সাঁওতালি বা সান্তালি সাঁওতাল পরগনা ও ছােটোনাগপুর অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। বর্তমানে এই ভাষার জন্য অলচিকি লিপি গড়ে উঠেছে। এরপরেই উল্লেখযােগ্য হল মুণ্ডারি ভাষা। বেশ কিছু মুণ্ডারি শব্দ সংস্কৃতের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে। যেমন-কদলী, অলাবু, তাম্বুল ইত্যাদি। এ ছাড়াও বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হওয়া দেশি শব্দসমূহ প্রায় সবই কোলারিয়ান ধারার অস্ট্রিক শব্দ, যেমন—খােকা, খড়, ডাঙা, চিংড়ি প্রভৃতি।


মােন-খমের: অস্ট্রো-এশিয়াটিক উপশাখার মােন-খমের ধারার মােট ভাষার সংখ্যা সাত। এই ধারার উল্লেখযোগ্য ভাষা মােন্ মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডের অল্প কিছু অংশে প্রচলিত। কম্বোডিয়ার প্রধান ভাষা খমের। এই ধারার অন্য ভাষাগুলি হল সিডাং, সিমাং, আকুন, নিকোবরি ও খাসি। উত্তর-পূর্ব ভারতের খাসি-জয়ন্তিয়া পার্বত্য অঞ্চলে খাসি উপজাতির বাস। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে এখনও নিকোবরি ভাষা ব্যবহৃত হয়।



দ্রাবিড় ভাষাবংশের বিস্তৃত আলােচনা করাে।


ভারতবর্ষে প্রাধান্যের দিক দিয়ে আর্য ভাষাগােষ্ঠীর পরই দ্রাবিড় ভাষাগােষ্ঠীর নাম উল্লেখ করতে হয়। এক-চতুর্থাংশ ভারতবাসীই দ্রাবিড়ভাষী। আর্য-পূর্ববর্তী দ্রাবিড় জাতি আর্য আগমনের ফলে উত্তর-ভারত থেকে বিতাড়িত হয়ে বিন্ধ্যপর্বতের দক্ষিণে এসে উপনীত হয়। দ্রাবিড় ভাষাগােষ্ঠীর ভাষাগুলি ভারত উপমহাদেশের চারটি অঞ্চলে প্রচলিত-


  • দক্ষিণি: দক্ষিণি শাখাটিই দ্রাবিড় ভাষাবংশের প্রধান শাখা। দ্রাবিড় ভাষাবংশের শ্রেষ্ঠ চারটি ভাষা তামিল, তেলুগু, কন্নড় ও মালয়ালম্ এই শাখারই অন্তর্গত। এ ছাড়াও নীলগিরির পার্বত্য অঞ্চলে 'টোডা' ও ‘কোডা’, মহীশূরে 'টুলু', মহীশূরের কুর্গ অঞ্চলে 'কোডগু' ভাষা প্রচলিত।


  • উত্তরা: উত্তরা শাখার দুটি প্রধান ভাষা হল কুরুখ বা ওরাওঁ এবং মালতাে বা ‘মালপাহাড়ি’। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা ও মধ্যপ্রদেশের সীমান্ত অঞ্চলে ওরাওঁ ভাষা এবং বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের রাজমহল পাহাড় সংলগ্ন অঞ্চলে মালতাে ভাষা প্রচলিত।


  • মধ্যদেশীয়: মধ্যদেশীয় শাখার অন্তর্গত গােণ্ডি ভাষা গােন্দ জনজাতির ভাষা হলেও মধ্যভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই ভাষা ব্যবহৃত হয়। ওড়িশায় 'কুই’, ‘কোন্দ’, ‘খােন্দ’ ভাষা, অপ্রদেশে, পশ্চিমবঙ্গে ও আসামে 'খােন্দ' ভাষা এবং ছত্রিশগড়ে 'পরজি' ভাষা প্রচলিত।


  • বেলুচিস্তান প্রদেশ: বর্তমান পাকিস্তানে অবস্থিত বেলুচিস্তানের পার্বত্য অঞ্চলে ব্রাহুই ভাষার নিদর্শন পাওয়া যায়।



ভারতে প্রচলিত সাহিত্যগুণসম্পন্ন দ্রাবিড় ভাষাগুলির মধ্যে তামিল ও মালয়ালমের পরিচয় দাও।


ভারতে প্রচলিত শ্রেষ্ঠ চারটি সাহিত্যগুণসম্পন্ন দ্রাবিড় ভাষার মধ্যে তামিল ও মালয়ালম অন্যতম।

তামিল: তামিলনাড়ু, কেরালা ও মহীশূরের কিছু অংশে এবং সিংহলের উত্তরে তামিল ভাষা প্রচলিত। ২০০১ খ্রিস্টাব্দের জনগণনা অনুযায়ী ৬ কোটির বেশি লােক এই ভাষায় কথা বলেন। কথ্য তামিল ভাষার প্রধান ৮টি আঞ্চলিক রূপ আছে। এই অঞ্চলগুলি হল—

  • কন্যাকুমারী অঞ্চল 

  • তিরুনেলভেলি ও রামনাদ জেলা

  • মাদুরাই ও ত্রিচি

  • কোয়েম্বাটুর জেলা

  • তাঞ্জোর ও দক্ষিণ আরকোট জেলা 

  • চেন্নাই ও চেঙ্গলপেট

  • উত্তর আরকোট জেলা এবং

  • উত্তর সিংহল।


প্রাচীন ব্রাত্মীলিপির দক্ষিণদেশীয় বিভেদ গ্রন্থি লিপি থেকে তামিল লিপির উদ্ভব হয়েছে। তামিল ভাষায় স্বরবর্ণ ১২টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ ১৮টি। এই ভাষায় যুক্তব্যঞ্জনের ব্যবহার নেই। তামিলে মহাপ্রাণ ও ঘােষবর্ণও অনুপস্থিত।


মালয়ালম্: আনুমানিক নবম শতাব্দীতে তামিল ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মালয়ালম্ ভাষা নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে ত্রয়ােদশ শতাব্দীতে একটি পৃথক ভাষারূপে জন্মগ্রহণ করে। কেরল ও লাক্ষাদ্বীপের প্রধান ভাষা হল মালয়ালম। তিন প্রকারের মালয়ালম্ ভাষার পরিচয় পাওয়া যায়-

  • সংস্কৃতানুগ মালয়াল,

  • তামিল-প্রভাবিত মালয়ালম্ এবং

  • তামিল প্রভাবমুক্ত খাঁটি মালয়ালম্। 


মালয়ালম্ ভাষার লিপি অন্যান্য দ্রাবিড় ভাষার মতােই ব্রাহ্মী লিপি থেকে সৃষ্ট। ২০০১ খ্রিস্টাব্দের জনগণনা অনুযায়ী মালয়ালমূভাষীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন কোটি।


'কন্নড়' ও 'তেলুগু' ভাষার পরিচয় দাও।

ভােট-চিনা ভাষাবংশের বিস্তৃত আলােচনা করাে।

ভারতে প্রচলিত ভােট-চিনা ভাষাবংশজাত ভাষাগুলি সম্বন্ধে আলােচনা করাে।

প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার বিস্তৃত পরিচয় দাও।


বৈদিক ভাষা থেকে কীভাবে সংস্কৃত ভাষার জন্ম হয়েছে তা আলােচনা করে এই ভাষার প্রখ্যাত সাহিত্যিকদের নাম এবং সময়কাল লেখাে।

মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার সময়কাল উল্লেখ করে এই পর্বটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার বিস্তৃতিকাল লেখাে। এর আদি স্তরের পরিচয় দাও।

মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার মধ্য ও অন্ত্য স্তরের পরিচয় দাও।


পৈশাচী, মহারাষ্ট্রী এবং অর্ধমাগধী অপভ্রংশ-অবহটঠ ভাষা থেকে সৃষ্ট নব্য-ভারতীয় আর্যভাষাগুলির পরিচয় দাও।

শৌরসেনী অপভ্রংশ-অবহট্ঠ ভাষা থেকে সৃষ্ট নব্য- ভারতীয় আর্য ভাষাগুলির পরিচয় দাও।

মাগধী অপভ্রংশ-অবহট্ঠ ভাষা থেকে সৃষ্ট নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষাগুলির পরিয় দাও।

ওড়িয়া, বাংলা ও অসমিয়া ভাষার পারস্পরিক সম্পর্ক আলােচনা করে এই তিনটি ভাষার পরিচয় দাও।


'সংস্কৃত ভাষা বাংলা ভাষার জননী'—এই মত গ্রহণযােগ্য কি না তা যুক্তিসহ আলােচনা করাে।

বাংলা ভাষার ইতিহাসে যুগের বিন্যাস দেখিয়ে প্রত্যেক যুগের সময়সীমা নির্দেশ করাে।

ভারতীয় আর্য ভাষা বলতে কী বােঝ? এই ভাষার ক্রমবিকাশের স্তর কটি ও কী কী? প্রতিটি স্তরের সময়সীমা নির্দেশ করাে।

উদাহরণসহ মধ্যযুগের বাংলা ভাষার চারটি ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করাে। এই ভাষার দুটি গ্রন্থের নাম লেখাে।


ভারত চার ভাষাবংশের দেশ—এই চার ভাষাবংশের পরিচয় দাও।

হিন্দুস্থানি ভাষা অর্থাৎ হিন্দি ও উর্দু ভাষা কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে তা লেখাে।

প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বাংলা ভাষা উদ্ভবের ধারাটি উদাহরণসহ আলােচনা করাে।