অচলায়তনে এবার মন্ত্র ঘুচে গান আরম্ভ হবে | তফাতটা এই যে, তােমরা বােঝা বয়ে মর, আমি হালকা হয়ে বসে আছি | পঞ্চকদাদা বলেন অচলায়তনে তাঁকে কোথাও ধরবে না

"দুজনে মিলে কেবলই উত্তর দক্ষিণ পুৰ পশ্চিমের সমস্ত দরজাজানলাগুলাে খুলে খুলে বেড়াব।" -বক্তা এই মন্তব্য করেছেন কেন?


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গুরু' নাটকের শেষ অংশে অচলায়তনের প্রাচীর ভেঙে দিয়ে যূনকদের নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন দাদাঠাকুর। সেখানে দাদাঠাকুর নিয়ে আসেন প্রাণের বার্তা, জীবনের হাতছানি। সংস্কারাচ্ছন্ন সুভদ্র এই নতুন পরিস্থিতিকে গ্রহণ করার বদলে শঙ্কিত হয়ে ওঠে তার পাপের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ মহাতামস ব্রত পালন সম্পূর্ণ হয়নি বলে। সেই সময় দাদাঠাকুর তাকে আশ্বস্ত করে জানান যে, প্রায়শ্চিত্তের আর কিছুই বাকি নেই। তিনি সব কিছু চুরমার করে ধুলােয় লুটিয়ে দিয়েছেন।


শাস্ত্রীয় সংস্কারে বদ্ধ অচলায়তনে বিশ্বাস ছিল যে, উত্তর দিকে একজটা দেবীর অধিষ্ঠান। তিনশাে পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে অচলায়তনের উত্তর দিকের জানলা খােলা হয়নি। বালক সুভদ্র কৈশােরের প্রবল কৌতূহলেই খুলে ফেলেছিল অচলায়তনের উত্তর দিকের তিনশাে পঁয়তাল্লিশ বছরের বন্ধ জানলা। কিন্তু তারপরেই তীব্র এক অপরাধবােধ তাকে ভর করে। সুভদ্র তার কাজকে পাপ হিসেবে ভেবেছিল এবং তার প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠেছিল। দাদাঠাকুরের নেতৃত্বে অচলায়তনের প্রাচীরদ্বার সব ভেঙে পড়লে সংস্কারমুক্তিতে প্রয়াসী পঞ্চক অনুকূল পরিস্থিতি পেয়ে যায়। শুধু উত্তর দিকের নয়, চারদিকের সব দরজা জানলা খুলে ফেলার উদ্যোগেই সে শামিল করতে চায় সুভদ্রকে।



"পঞ্চকদাদা বলেন অচলায়তনে তাঁকে কোথাও ধরবে না।" -মন্তব্যটির প্রসঙ্গ ও তাৎপর্য আলােচনা করাে।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গুরু' নাটকে দেখা যায়, গুরুর আগমনের সংবাদ নিস্তরঙ্গ নিয়মতান্ত্রিক অচলায়তনে প্রবল চাঞ্চল্য নিয়ে আসে। গুরু সম্পর্কে ইতিপূর্বে কোনাে প্রত্যক্ষ ধারণা অচলায়তনের বালকদের ছিল না। কিন্তু তাঁর সম্পর্কে তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় প্রবল কৌতূহল, আশঙ্কা এবং আগ্রহ। এই মনােভাব থেকেই অচলায়তনের প্রথম বালক পঞ্জকের মুখে শােনা কথাটি পুনরুদ্ধৃত করেছে।


তৃতীয় বালকের কাছে গুরুর স্বরূপ অজ্ঞাত থাকায় সে গুরুর বিষয়ে জানতে চায়। তখনই প্রথম বালক পঞ্চকের মন্তব্যকে পুনরুদ্ধৃত করে তাকে জানায় যে গুরু মস্ত বড়াে। আসলে অচলায়তনের পুথিপত্র আর তথাকথিত শুদ্ধাচারের বাইরে গুরু ছিলেন মুক্ত প্রাণের বার্তাবাহক। নিয়মনিষ্ঠার ঘেরাটোপে তাঁকে আটকে রাখা সম্ভব ছিল না। পঞ্চক তাই মনে করে শাস্ত্র অথবা শাস্ত্রাচার আসলে গুরুর আগমনের পথকেই অবরুদ্ধ করবে। যুক্তিহীন আচার আর শাস্ত্রনির্দেশের তথাকথিত অচলায়তনের বাইরে তিনি নিজেকে স্থাপন করেছিলেন বলেই পঞ্চক মনে করেছে যে, সেই বিরাট ব্যক্তিত্ব কিছুতেই অচলায়তনের সংকীর্ণতার মধ্যে স্থান করে নিতে পারবে না। তার সেই ধারণার কথাই সে বলেছিল যা পুনরুদ্ধৃত হয়েছে প্রথম বালকের মুখে।



"...তফাতটা এই যে, তােমরা বােঝা বয়ে মর, আমি হালকা হয়ে বসে আছি।" -বক্তা এই মন্তব্যটির মধ্যে দিয়ে কী বােঝাতে চেয়েছেন?


রবীন্দ্রনাথের 'গুরু' নাটকে অচলায়তনের বদ্ধ প্রাকারে পঞ্চক ছিল মুক্তজীবনের প্রতীক। গুরুর আগমনের সংবাদ সেই জীবনে নিয়ে আসে এক নতুন উদ্দীপনা। কিন্তু পঞ্চকের এই জীবনবােধের সঙ্গে অচলায়তনের অন্যান্যদের জীবনধারা কোনােভাবেই মেলে না।


গুরু কোন দ্বার দিয়ে অচলায়তনে আসবেন তা জয়ােত্তম যেমন জানে না, পঞকও জানে না। কিন্তু পঞ্চক এই কারণে শ্লাঘা অনুভব করে যে, তার মাথায় অন্তত কোনাে বােঝা নেই। অচলায়তনে যা কিছু জীর্ণতার প্রতীক—তারই প্রতিবাদ করে পঞক। সেখানে গান নিষিদ্ধ, কিন্তু পঞ্চকের হাতিয়ার হয় সেই গান-ই। "তুমি ডাক দিয়েছ কোন্ সকালে" -পঞ্চকের এই গানে অচলায়তনের নিয়মতন্ত্রের প্রতি কোনাে শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়নি, বরং আছে গুরুর জন্য ব্যাকুলতা। সে চায় অচলায়তনে মন্ত্র ঘুচে গান আরম্ভ হােক। প্রাণের উপরে জগদ্দল পাথরের মতাে চেপে বসা বােঝা থেকে প্রাণের মুক্তি ঘটুক। অচলায়তনের ধারকরা, যেমন মহাপঞ্ক একে 'মতিভ্রম বলে উল্লেখ করলেও পঞ্চক তাতেই উল্লসিত হয়ে থাকে। তাই তার কেবলই মন্ত্রে ভুল হয়ে যায়। সে অপেক্ষা থাকে গুরুর আগমনের জন্য এবং অচলায়তনের প্রাণহীন প্রথা ভাঙার জন্য। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস আর সংস্কার থেকে মুক্তির এক উপলব্ধি পঞ্চকের কথায় প্রকাশ পায়।



“অচলায়তনে এবার মন্ত্র ঘুচে গান আরম্ভ হবে।" -অচলায়তনে মন্ত্রের প্রভাব কেমন ছিল?


রবীন্দ্রনাথের 'গুরু' নাটকে গুরুর আগমনের সংবাদে পঞক উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। সংস্কারশাসিত অচলায়তনে গান করা ছিল নিষিদ্ধ। পুথিপত্র আর শাস্ত্রীয় আচারের মধ্যে প্রাণের আনন্দের প্রকাশ অর্থাৎ গানের কোনাে জায়গাই নেই। তাই মহাপক পঞ্চকের গান করাকে 'মতিভ্রম বলে আখ্যা দেয়। কিন্তু পঞ্চকের কথায়গুরুর আগমনে মহাপঞ্জককেও গান ধরতে হবে। মন্ত্রের জায়গা নেবে গান। অচলায়তনের বােবা পাথরগুলাের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসবে সুর।


অচলায়তন সম্পূর্ণই ছিল মন্ত্রশাসিত। শাস্ত্রীয় আচার এবং অন্ধবিশ্বাস যুক্তিহীনতার যে পটভূমি তৈরি করেছিল, সেখানে অনিবার্য ছিল এই মন্ত্রের শাসন। অমিতায়ুর্ধারণী মন্ত্র, মহাতামস ব্রত, বজ্রশুদ্ধিব্রত, অষ্টাঙ্গশুদ্ধি উপবাস—এরকম বহু অজানা নিয়মকানুন আর মন্ত্রতন্ত্র ঘিরে রেখেছে অচলায়তনকে। মন্ত্রের প্রভাব অচলায়তনে এতটাই ব্যাপক যে সেখানে গান নিষিদ্ধ, বাইরের মুক্ত বাতাসের প্রবেশও নিষিদ্ধ। পঞ্চকের গানকে তাই এখানে 'সর্বনাশ'-এর ইঙ্গিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আবার স্থবিরক সম্প্রদায়ের মন্ত্র পাওয়ার জন্য তপস্যার অপরাধে চণ্ডক নামক এক শূনকের শিরচ্ছেদ করতেও দ্বিধা করেন না স্থবিরপত্তনের রাজা। এভাবেই মন্ত্রের শাসন অচলায়তনে জন্ম দেয় অন্ধত্ব ও ঔদ্ধত্যের, যা প্রাণের বিকাশকে অবরুদ্ধ করে রাখে।


“সে যেখানে গেছে, সেটা ধোঁকা!" -'ধোঁকা' শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে কবির কোন মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে?

শিক্ষা আর সার্কাস কতখানি তুল্যমূল্য—আলােচনা করাে।

“জ্ঞান কোথায় গেল”—জ্ঞানের অভাব কবিতায় কীভাবে ধ্বনিত হয়েছে?


'গুরু' নাটকের পঞ্চক চরিত্রটির মধ্যে কতখানি প্রথা বিরােধিতা ধরা পড়েছে তা আলােচনা করাে।

‘গুরু’ নাটকে পঞ্চক কীভাবে যুক্তিবাদী মনােভাবের পরিচয় দিয়েছে?

গুরু নাটকে পঞ্চকের সহানুভূতিশীলতার পরিচয় দাও।

'গুরু' নাটকের মহাপক চরিত্রটি আলােচনা করাে।


'গুরু' নাটকে গুরুর যে স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে তা নিজের ভাষায় লেখাে।

'গুরু' নাটকের সুভদ্র চরিত্রটি বিশ্লেষণ করাে।

'গুরু' নাটকে শূনকদের ভূমিকা আলােচনা করাে।

'গুরু' নাটকে দর্ভকদের ভূমিকা আলােচনা করা।


'গুরু' নাটকে মােট কটি সংগীত রয়েছে? নাটকটিতে সংগীতের ভূমিকা আলােচনা করাে।

রূপক নাটক হিসেবে 'গুরু'-র সার্থকতা আলােচনা করাে।

গুরু নাটকে যে নাট্যদ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটেছে তা নিজের ভাষায় আলােচনা করাে।

গুরু নাটকে সংলাপ রচনায় নাট্যকারের সার্থকতা আলােচনা করাে।


“অচলায়তনে এবার মন্ত্র ঘুচে গান আরম্ভ হবে।" -মন্ত্ৰ ঘুচে গান বিষয়টি ব্যাখ্যা করাে।

"আমাদের সমস্ত লাভ সমাপ্ত, সমস্ত সঞ্চয় পর্যাপ্ত।" বক্তার এই মন্তব্যের কারণ কী?

"আমাদের সমস্ত লাভ সমাপ্ত, সমস্ত সঞ্চয় পর্যাপ্ত।" বক্তার এই মন্তব্যটি কতটা সমর্থনযোগ্য বলে তুমি মনে কর?

"আমি তার কান্না আমার বুকের মধ্যে করে এনেছি।" -বক্তা কে? কোন্ প্রসঙ্গে কাকে উদ্দেশ্য করে বক্তা একথা বলেছেন? এই বক্তব্যের মধ্যে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে?


সুভদ্রের উত্তর দিকের জানলা খােলা অচলায়তনে কোন প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল?

"পৃথিবীতে জন্মেছি পৃথিবীকে সেটা খুব কষে বুঝিয়ে দিয়ে তবে ছাড়ি।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করাে।

"পৃথিবীতে জন্মেছি পৃথিবীকে সেটা খুব কষে বুঝিয়ে দিয়ে তবে ছাড়ি।"—মন্তব্যটি শুনে শ্রোতার মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?

"উনি গেলে তােমাদের অচলায়তনের পাথরগুলাে সুদ্ধ নাচতে আরম্ভ করবে, পুথিগুলাের মধ্যে বাঁশি বাজবে।" -মন্তব্যটির তাৎপর্য আলােচনা করাে।


“যিনি সব জায়গায় আপনি ধরা দিয়ে বসে আছেন তাঁকে একটা জায়গায় ধরতে গেলেই তাঁকে হারাতে হয়।” মন্তব্যটির মর্মার্থ আলােচনা করাে।

"আজ কোনাে নিয়ম রক্ষা করা চলবে বলে বােধ হচ্ছে না।"- কেন এই দিনে নিয়ম রক্ষা করা সম্ভব নয় বলা হয়েছে?

"ও আজ যেখানে বসেছে সেখানে তােমাদের তলােয়ার পৌঁছােয় না।" -সেখানে তলােয়ার না পৌঁছানাের কারণ কী?

"খােলা জায়গাতেই সব পাপ পালিয়ে যায়।" -মন্তব্যটির মধ্য দিয়ে বক্তা কী বােঝাতে চেয়েছেন?