সে যেখানে গেছে, সেটা ধোঁকা | শিক্ষা আর সার্কাস কতখানি তুল্যমূল্য | “জ্ঞান কোথায় গেল”—জ্ঞানের অভাব কবিতায় কীভাবে ধ্বনিত হয়েছে?

“সে যেখানে গেছে, সেটা ধোঁকা!" -'ধোঁকা' শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে কবির কোন মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে?


বর্তমান সমাজে ব্যাবহারিক জীবনে মানুষের শিক্ষা যেভাবে তার প্রকৃত তাৎপর্য হারায় এবং আত্মিক বিকাশের সহায়ক হয় না, তার উল্লেখ প্রসঙ্গেই উক্তিটি করা হয়েছে। আইয়াপ্পা পানিকর তাঁর 'শিক্ষার সার্কাস কবিতায় প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সমালােচনা করেছেন। প্রতিটি শিক্ষাব্যবস্থার ঘােষিত উদ্দেশ্য হল জ্ঞান সঞ্চয় এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানাে। অনবরত অধ্যয়নের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে জীবজগতের শ্রেষ্ঠতম প্রতিনিধির মর্যাদা দেবে এবং তার জ্ঞানভাণ্ডারকে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করে চলবে—এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভােগবাদী সমাজে শিক্ষাও তার আদর্শ ও উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে। শিক্ষা এখানে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠা অর্জনের জন্য যেন এক সিঁড়ি ভাঙা অঙ্ক। এক শ্রেণি থেকে আর এক শ্রেণিতে নিছক যান্ত্রিকভাবে উত্তরণ, আর তার জন্য পরীক্ষায় পাসের প্রাণান্তকর প্রয়াস-শিক্ষার সার্থকতা কেবল এইটুকু পরিসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে যে শিক্ষা একজন শিক্ষার্থী অর্জন করে, সেখানে আর যাই থাক, প্রকৃত জ্ঞানের চর্চা অন্তত থাকে না। স্কুল-কলেজে প্রদত্ত শিক্ষাপদ্ধতির নিষ্ফলতাই বরং সেখানে প্রমাণিত হয়। এই ধরনের শিক্ষাপদ্ধতির ফলে তাই শিক্ষার্থীদের আত্মিক মৃত্যু হয়ে ওঠে অনিবার্য। 'ধোঁকা' শব্দটির দ্বারা শিক্ষার এই ফাকিকেই তুলে ধরা হয়েছে।



শিক্ষা আর সার্কাস কতখানি তুল্যমূল্য—আলােচনা করাে।


বিশিষ্ট মালয়ালম্ কবি আইয়াপ্পা পানিকর-এর লেখা শিক্ষার সার্কাস নামক কবিতায় কবি শিক্ষাকে সার্কাসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সার্কাস হল এমন একটি বিনােদন যেখানে বিভিন্ন কৌশল ও কেরামতি দেখিয়ে মানুষকে আনন্দ দেওয়া হয়। সার্কাসে ট্রাপিজের খেলায় কুশলী খেলােয়াড় এক দড়ি থেকে আর-এক দড়িকে অবলম্বন করে শূন্যে ভেসে থাকার অদ্ভুত দক্ষতা দেখায়। বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষাগ্রহণও এইরকমই এক ভেলকি দেখানাের খেলায় পরিণত হয়েছে। শিশু তার প্রথম শিক্ষাগ্রহণের পর থেকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় করে শ্রেণি পরিবর্তন করে। এই শ্রেণি পরিবর্তনে তার নিজস্ব কোনাে তাগিদ নেই। এটা তার কাছে কেবল একঘেয়ে একটি বিষয়। নিয়মের বেড়াজালে আটকা পড়ে, শিক্ষক-অভিভাবকদের চোখ রাঙানির ভয়ে তারা পড়া মুখস্থ করে একের পর এক শ্রেণি পাস করে। কিন্তু এতে শিক্ষার্থীর নিজস্ব ব্যক্তিত্ব' বা ‘মনন’-এর কোনাে বিকাশ ঘটে না।


এই শিক্ষাপদ্ধতিতে শিক্ষার্থী কেবল জানতে শেখে বা জ্ঞান সঞ্চয় করে। কিন্তু তাকে নিজের জীবনের সঙ্গে অঙ্গীভূত করতে শেখে না। তাই প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের অভাব থাকায় শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশ কিছুতেই সেখানে সম্পন্ন হয় না। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সে তখন কেবল একটা যন্ত্রে পরিণত হয় এবং খুব সহজেই কৃত্রিম ধাঁচে নিজেকে গড়ে তােলে। পরবর্তীকালে সে তার পূর্বের শিক্ষা ভুলে যায়। এইভাবেই দেশে মেধা ও মননের মৃত্যু ঘটে এবং প্রতিটি মানুষ তার ব্যক্তিত্ব হারিয়ে যন্ত্রে পরিণত হয়। এতে দেশের এবং সভ্যতার অগ্রগতি ও উন্নতি বাধা পায়।



“জ্ঞান কোথায় গেল”—জ্ঞানের অভাব কবিতায় কীভাবে ধ্বনিত হয়েছে?


আইয়াপ্পা পানিকরের ‘শিক্ষার সার্কাস’ কবিতাটিতে প্রথাগত শিক্ষার অসারতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। শিক্ষা মানুষের বিকাশের সহায়ক, তাই শিক্ষার্থীকে ছােটা বয়স থেকেই বিদ্যাশিক্ষায় অভ্যস্ত করে তােলা হয়। কিন্তু বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা প্রতিযােগিতামূলক মানসিকতা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে বলে জ্ঞানের সঞ্চয় বা চেতনার উন্মেষ সেখানে প্রকৃত উদ্দেশ্যরূপে বিবেচিত হয় না। তাই সেই প্রায়ােজনিক শিক্ষাকে শিক্ষার্থীরা জীবনের কোনাে কাজেই আর ব্যবহার করতে পারে না। কেবল পরীক্ষায় পাস করে পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার সার্থকতায় তারা নােট মুখস্থ করে অধীত বিদ্যাকে সঞ্চয় করে রাখে তাদের মাথার মধ্যে। এর ফলে কখনােই তাদের জ্ঞানের আহরণ হয় না। তাই কবি বলেছেন যে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা হল অন্তঃসারশূন্য, জ্ঞানশূন্য এবং তা এক ধরনের প্রতারণা বা ধোঁকা। জ্ঞানকে ধোঁকা-দেওয়া, শিক্ষার্থীর মানসিক অপমৃত্যু ঘটানাে এই শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি কবির বিদ্রুপ বর্ষিত হয়েছে এই কবিতায়। খেলা দেখাবার সময় জাদুকর যেমন আসলটাকে ঢেকে নকলটাকে প্রতীয়মান করে তােলে, বর্তমানে সঠিক দিশা হারানাে শিক্ষার পরিস্থিতিও একেবারে সেইরকম। এভাবে চলার ফলে দেশের সভ্যতা হয়ে উঠেছে অন্তঃসারশূন্য যা দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির অন্তরায়।


'বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়াে' গল্পে প্রতীকের ব্যবহার যেভাবে ঘটেছে তা সমগ্র গল্প অবলম্বনে আলােচনা করাে।

কে, কোন্ পরিস্থিতিতে গল্পে ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়ােকে প্রথম দেখেছিল?

"পড়ে-থাকা শরীরটার দিকে তাকিয়ে তারা কেমন হতভম্ব হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।" -তাদের হতভম্ব হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকার কারণ কী?

বিশাল ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়ােকে দেখে বিভিন্ন জনের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তা নিজের ভাষায় লেখাে।


পাদরি গােনসাগা ডানাওয়ালা বুড়ােটিকে কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করেছিলেন তা বিশ্লেষণ করাে।

"শেষটায় তার মাথায় ফন্দিটা খেলে গেলাে" -ফন্দিটা সম্পর্কে বিস্তারিত আলােচনা করাে।

"এই দেবদূতই ছিল একমাত্র যে তার নিজের এই হুলুস্থুল নাট্যে কোনােই ভূমিকা নেয়নি।" -মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করাে।

'বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়াে’ গল্পে মাকড়সায় রূপান্তরিত হওয়া মেয়ের চরিত্রটি কোন প্রয়ােজন সিদ্ধ করেছে?


মাকড়সা হয়ে যাওয়া মেয়েটি থুরথুরে ডানাওয়ালা বুড়ােকে কতটা প্রভাবিত করেছিল আলােচনা করাে।

"বাড়ির মালিকদের অবশ্য বিলাপ করার কোনােই কারণ ছিল না।" -এই বিলাপ করার কারণ ছিল না কেন?

মানুষের কৌতূহল কমে যাওয়ার পরে ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়ােকে যেভাবে গল্পে পাওয়া যায় তা আলােচনা করাে।

"এলিসেন্দা একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললে-" এলিসেন্দা কী দেখেছিল? এলিসেন্দা কেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল? সে কেমনভাবে উড়ে যাচ্ছিল? এলিসেন্দা কেন তাকিয়ে তাকে দেখতে থাকে?


"...সে তাে আর তখন তার জীবনের কোনাে উৎপাত বা জ্বালাতন নয়, বরং সমুদ্রের দিকচক্রবালে নিছকই কাল্পনিক একটা ফুটকিই যেন।" -উদ্দিষ্ট ব্যক্তিটিকে কাল্পনিক একটা ফুটকির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?

'বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়াে’ গল্পে ডানাওয়ালা বুড়াের আবির্ভাব ও মিলিয়ে যাওয়ার কাহিনি বিবৃত করাে।

'বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো' গল্পে পাদরি গােনসাগার চরিত্রটি আলােচনা করাে।

'বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়াে’ গল্পে জাদু বাস্তবতা (magic realism)-র যে ব্যবহার লক্ষ করা যায় তা নিজের ভাষায় আলােচনা করাে।


ছােটোগল্প হিসেবে 'বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়াে' গল্পের সার্থকতা আলােচনা করাে।

"পড়ে থাকা শরীরটার দিকে তাকিয়ে তারা কেমন হতভম্ব হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল" -কারা 'চুপচাপ' দাঁড়িয়ে রইল? পড়ে থাকা শরীরটার’ বিবরণ তােমার নিজের ভাষায় লেখাে।


‘শিক্ষার সার্কাস’ কবিতাটির মূল উৎস ও আঙ্গিক সম্পর্কে সংক্ষেপে আলােচনা করাে।

'শিক্ষার সার্কাস’ কবিতাটির কাব্যশৈলী বিচার করাে।

শিক্ষার সার্কাস কবিতাটির মূল বক্তব্য সংক্ষেপে আলােচনা করাে।

'শিক্ষার সার্কাস' কবিতায় কবির যে মনােভাবের প্রকাশ ঘটেছে তা নিজের ভাষায় লেখাে।


'শিক্ষার সার্কাস’ কবিতায় কবি শিক্ষাকে কেন সার্কাস- এর সঙ্গে তুলনা করেছেন তা নিজের ভাষায় লেখাে।

'শিক্ষার সার্কাস' কবিতার নামকরণ কতটা সার্থক?

"যদি সব শ্রেণি শেষ হয়ে যায়, আমি তবু পরের শ্রেণিতে যাব।" -সব শ্রেণি শেষ হয়ে পরের শ্রেণিতে যাওয়া বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?

"সব শিক্ষা একটি সার্কাস”—মন্তব্যটির তাৎপর্য আলােচনা করাে।