সংবিধান প্রণয়নে গণপরিষদের ভূমিকার সীমাবদ্ধতা আলোচনা করাে। খসড়া কমিটির কয়েকজন সদস্যের নাম লেখাে।

ভারতের সংবিধান রচনায় গণপরিষদের ভূমিকার সীমাবদ্ধতা


ভারতীয় সংবিধান রচনার জন্য গঠিত গণপরিষদের গঠনব্যবস্থা ও কার্যাবলি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচিত হয়েছে। যেমন一


[1] গণচরিত্রের ঘাটতি: গণপরিষদের সব থেকে বড়াে দুটি ছিল এর গপচরিত্রের ঘাটতি। দামােদরস্বরূপ শেঠের মতে, যেহেতু প্রাপ্তবয়স্কের ভােটাধিকারের ভিত্তিতে গণপরিষদ নির্বাচিত হয়নি, তাই এতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। এই কারণে তিনি প্রাপ্তবয়স্কের ভােটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত নতুন একটি গণপরিষদ গঠনের দাবি জানান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, জনগণের শতকরা মাত্র ১৪ ভাগকে নিয়ে পরােক্ষ নির্বাচনে গঠিত এই গণপরিষদ কখনও দেশের সমস্ত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না।


[2] উচ্চবিত্ত প্রতিনিধির সংখ্যাধিক্য: অনেকে মনে করেন, গণপরিষদে সমাজের উচ্চবিত্ত ও সামন্ততন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব সব থেকে বেশি ছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষের চিন্তাধারা বা আশা-আকাঙ্ক্ষা এখানে কোনাে মর্যাদা পায়নি।


[3] গণভােটের অনুপস্থিতি: গণপরিষদ কর্তৃক রচিত সংবিধানটিকে যাচাই করার জন্য কোনাে গণভােটের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অনেকে একে জনগণের সংবিধান বলতে চান না।


[4] পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা: অধ্যাপক জোহারির অভিমত হল, গণপরিষদে সংবিধানের খসড়া আলােচনার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা ছিল এর অন্যতম ত্রুটি। সংশােধনী প্রস্তাব বাতিল করার পর্যাপ্ত ক্ষমতা সভাপতির থাকায় সাধারণ সদস্যদের মতামত এক্ষেত্রে গুরুত্ব পায়নি। সংবিধান রচনায় আইনবিদদের পূর্ণ কর্তৃত্ব গণপরিষদে এক ধরনের স্বৈরাচার সৃষ্টি করেছিল বলে অনেকে মনে করেন। কে ভিরাওয়ের মতে, খসড়া কমিটির সভাপতি ড. আম্বেদকর সদস্যদের অনেক সময় তাঁর ছাত্র হিসেবে গণ্য করতেন, সব বিষয়ে তিনিই ছিলেন শেষ কথা বলার অধিকারী। তবে, সংবিধান রচনার প্রকৃত ক্ষমতা ড. আম্বেদকর বা তার খসড়া কমিটির ছিল না, তা ছিল নেহরু, প্যাটেল, রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং আবুল কালাম আজাদের হাতে।


[5] কংগ্রেসের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব: অনেকে সমালােচনা করেন যে, গণপরিষদে কংগ্রেসের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব বাস্তবে গণপরিষদকে কংগ্রেস পরিষদে রূপান্তরিত করেছিল।


উপসংহার: তৎকালীন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে উপরি-উক্ত সমালােচনা পুরােপুরি গ্রহণযােগ্য নয়। সেই সময়ে দ্রুত এবং স্থায়ী একটি রাজনৈতিক কাঠামাে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল গণপরিষদের প্রধান কাজ। তৎকালীন ভারতের অবিসংবাদী জননেতাদের নিয়ে গঠিত গণপরিষদে কংগ্রেসের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য যে ছিল, একথা সত্যি। কিন্তু এর ফলে একদিকে যেমন সাম্প্রদায়িক ও বিচ্ছিন্নতাকামী শক্তিগুলি সংবিধান রচনায় বাধা দিতে পারেনি, অন্যদিকে তেমনি মাত্র তিন বছর সময়কালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান রচনার পথ সুগম হয়েছিল।


খসড়া কমিটির কয়েকজন সদস্য


খসড়া কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. বি আর আম্বেদকর এবং অন্য সদস্যরা হলেন এন গােপালস্বামী আয়েঙ্গার, কে এম মুন্সি, ডি পি খৈতান, বি এল মিত্র, সৈয়দ মহম্মদ শাহেদুল্লাহ প্রমুখ।


দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি | দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের গুণাগুণ | দুম্পরিবর্তনীয় সংবিধান কাকে বলে? 


সুপরিবর্তনীয় ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করাে।


ভারতের সংবিধান প্রণয়নের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা বিশ্লেষণ করে।


ভারতীয় সংবিধানের দর্শন যেভাবে প্রস্তাবনায় প্রতিফলিত হয়েছে তা আলােচনা করাে।


ভারতীয় সংবিধানের মুখবন্ধ বা প্রস্তাবনার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করাে।


ভারতীয় সংবিধানের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যগুলি আলােচনা করাে | ভারতীয় সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লেখাে।


গণপরিষদ কাকে বলে? গণপরিষদের গঠন ও উদ্দেশ্য আলোচনা করাে। ভারতের সংবিধান প্রণয়নে গণপরিষদের ভূমিকা আলােচনা করাে।