আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তাবিদ হিসেবে নিকোলো ম্যাকিয়াভেলির ভূমিকা বিশ্লেষণ করাে। তার রাষ্ট্রচিন্তার বৈশিষ্ট্য ও ত্রূটিবিচ্যুতিগুলি লেখাে।

সূচনা: ইটালির একজন বিখ্যাত রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ছিলেন নিকোলো ডি বার্নাডাে ম্যাকিয়াভেলি (১৪৬৯-১৫২৭ খ্রি.)। আধুনিক রাষ্ট্রতত্ত্বের ভিত নির্মাণের কারণে তাকে 'আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক’, ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নিউটন’ প্রভৃতি আখ্যা দেওয়া হয়।


ম্যাকিয়াভেলির রাষ্ট্রচিন্তা


[1] রচিত রাষ্ট্রগ্রন্থসমূহ: ম্যাকিয়াভেলি রচিত কয়েকটি গ্রন্থ হল—‘দ্য প্রিন্স’, ‘দ্য ডিসকোর্সেস অন দ্য ফাস্ট ডিকেড অব লিভি', 'মান্ট্রোগােলা', 'আট অব ওয়ার প্রভৃতি। তবে তার সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাবনার প্রতিফলন মেলে 'দ্য প্রিন্স' গ্রন্থে। এই গ্রন্থে ম্যাকিয়াভেলি রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিচালনার বিধিনিষেধগুলি আলােচনা করেছেন।


[2] রাষ্ট্রের শ্রেণিবিভাগ: ম্যাকিয়াভেলি রাষ্ট্র ও সরকারকে রাজতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র এবং নিয়মতান্ত্রিকগণতন্ত্র—এই তিনভাগে ভাগ করেছেন। তিনি 'দ্য প্রিন্স' গ্রন্থে রাজতন্ত্র এবং 'দ্য ডিসকোর্সেস অন দ্য ফাস্ট ডিকেড অব লিভি’ গ্রন্থে প্রজাতন্ত্রের স্বরূপ তুলে ধরেছেন।


[3] রাষ্ট্রচিন্তার গুরুত্ব: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার বিকাশে ম্যাকিয়াভেলির রাষ্ট্রভাবনা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথমত, তিনিই হলেন প্রথম ইউরােপীয় রাষ্ট্রচিন্তাবিদ, যিনি রাষ্ট্রভাবনাকে ধর্ম ও নীতিশাস্ত্রের কবল থেকে মুক্ত করতে পেরেছিলেন। দ্বিতীয়ত, তিনিই প্রথম রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার উপাদানগুলিকে বাস্তব তথ্যের কষ্টিপাথরে যাচাই করে নেওয়ার কথা বলেছেন। তৃতীয়ত, তিনিই প্রথম ক্ষমতা রাজনীতির প্রবক্তা, যা আজও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিভিন্ন রাষ্ট্র অনুসরণ করে চলেছে।


ম্যাকিয়াভেলির রাষ্ট্রচিন্তার বৈশিষ্ট্য ও ত্রূটিবিচ্যুতি


[1] বৈশিষ্ট্য: সাধারণভাবে ম্যাকিয়াভেলির রাষ্ট্রচিন্তার কিছু বৈশিষ্ট্য হল一


  • ধ্রুপদি চিন্তায় গুরুত্ব: ম্যাকিয়াভেলি বিশ্বাস করতেন গ্রিস এবং রােমের ধুপদি বা সনাতন ঐতিহ্য ইউরােপে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারলে মধ্যযুগীয় অসাড় ও স্থবির রাষ্ট্রচিন্তা থেকে ইউরােপ মুক্ত হবে।


  • আধুনিক জাতীয় রাষ্ট্রের ধারণা প্রবর্তন: তিনিই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রচিন্তাক্ষেত্রে আধুনিক জাতীয় রাষ্ট্রের ধারণা পেশ করেন। তিনি বলেন জাতীয় রাষ্ট্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল সার্বভৌমত্ব।


  • ধর্ম ও নীতিবােধের মধ্যে পৃথকীকরণ: ম্যাকিয়াভেলি বলেন যে, ব্যক্তিগত নীতিবােধ রাজার ক্ষেত্রে প্রযােজ্য নয়। রাজাকে ব্যক্তিধর্ম ও নীতিবােধের উর্ধ্বে উঠে কঠোরভাবে শাসন চালাতে হবে।


  • রাজনৈতিক সমস্যা নির্ধারণ পদ্ধতি: রাজনৈতিক সমস্যাপুলি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ম্যাকিয়াভেলি অভিনব পদ্ধতির উল্লেখ করেছেন


    • সদর্থক (Positive): সমকালীন সমাজের ঘটনাবলি থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাবলা হয়েছে।


    • নঞর্থক (Negative): এটি মূলত ঈশ্বরের অস্তিত্ব, চার্চের একচেটিয়া কর্তৃত্ব এবং প্রাকৃতিক আইনের একাধিপত্য অস্বীকার করাকে বােঝায়।


[2] ত্রূটিবিচ্যুতি: সমালােচকদের দৃষ্টিতে ম্যাকিয়াভেলির রাষ্ট্রচিন্তার কিছু ত্রূটিবিচ্যুতি ধরা পড়ে। যেমন- [i] ম্যাকিয়াভেলি সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক ক্ষমতাতত্ত্ব এবং যুদ্ধনীতি ছাড়া আর অন্য কিছুর ওপর তেমন স্পষ্টভাবে আলােকপাত করেননি। [ii] ম্যাকিয়াভেলির ধারণায় আগে রাষ্ট্রীয় পরে সামাজিক কাঠামাে গঠিত হয়েছে। কিন্তু তার এই ধারণা ভুল, কেন না আগে সমাজ তৈরি হয়েছে, পরে রাষ্ট্রীয় কাঠামাে। [iii] রাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষার জন্য সমস্ত ক্ষমতা রাজার হাতে থাকা উচিত—তার এই ধারণাও ত্রূটিপূর্ণ, কেন-না এক্ষেত্রে প্রজার স্বার্থ লঙ্ঘিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। [iv] সর্বোপরি অভিজ্ঞতার আলােকে তিনি যেভাবে মানবচরিত্রকে শ্রেণিভুক্ত করেছেন, তাও ভ্রান্ত ছিল। তাই অধ্যাপক আ্যালেন বলেছেন "ম্যাকিয়াভেলির মানবপ্রকৃতি সম্পর্কিত ধারণা ছিল ত্রূটিপূর্ণ।”


বরনির ফতােয়া-ই-জাহান্দারিতে রাজতন্ত্র ও রাষ্ট্রনীতি সম্বন্ধে ধারণা কী ছিল?


ধর্মীয় দিক থেকে এবং রাষ্ট্রীয় দিক থেকে দিল্লি সুলতানি রাষ্ট্রের প্রকৃতি আলােচনা করাে।


জিয়াউদ্দিন বরনি বর্ণিত সুলতানি যুগের নরপতিত্বের আদর্শ কী ছিল? দিল্লি সুলতানি শাসন কি ধর্মাশ্রয়ী ছিল?


রােমান পণ্ডিত মার্ক তুল্লি সিসেরাের রাষ্ট্রচিন্তা ও রাষ্ট্রাদর্শ আলােচনা করাে।


রােমান রাষ্ট্রচিন্তার বিভিন্ন দিকগুলি আলােচনা করাে। রােমান রাষ্ট্রচিন্তার প্রকৃতি ও গুরুত্ব লেখাে


ইংল্যান্ডের অষ্টম হেনরির আমলে টমাস ক্রমওয়েল কীভাবে 'প্রাসাদ শাসন'-কে জাতীয় শাসনব্যবস্থায় রূপান্তরিত করেন? চার্চতন্ত্রের প্রাধান্য রােধের লক্ষ্যে টমাস ক্রমওয়েল কী কী উদ্যোগ নেন?


টমাস ফ্রমওয়েল ও নব্য রাজতন্ত্রের ওপর আলােকপাত করাে। ক্রমওয়েল কোন্ কোন বিভাগের পুনর্গঠন করেন?

নতুন রাজতন্ত্র ও টমাস ক্রমওয়েলের অবদান।