হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীদের সামাজিক জীবনের পরিচয় দাও।

সূচনা: সিন্ধু নদের তীরে অবস্থিত হরপ্পা সভ্যতা ছিল ভারতের প্রথম নগর সভ্যতা/ সিন্ধু বা হরপ্পা সভ্যতার সমাজ ছিল শ্রেণি- বিভক্ত। হরপ্পার সিলমােহরে যে লিপি ব্যবহৃত হয়েছে। তার আজও পাঠোদ্ধার হয়নি। তাই হরপ্পার সমাজ সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য মেলেনি। তবে যতুটুকু তথ্য মিলেছে তা থেকে হরপ্পার সমাজের বেশ কয়েকটি দিক জানা যায়।


হরপ্পাবাসীর সামাজিক জীবন


[1] সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস: হরপ্লার সমাজে বিভিন্ন শ্রেণির অবস্থান ছিল।


  • কোশাস্বীর মত: হরপ্লার সমাজে উচ্চবর্গীয় ও নিম্নবর্গীয় মানুষের স্পষ্ট বিভাজন লক্ষ করে ঐতিহাসিক দামােদর ধর্মানন্দ কোশাম্বী বলেছেন (a) প্রভাবশালী পুরােহিত ও শাসকগােষ্ঠী, (b) বেতনভুক যােদ্ধা সম্প্রদায়, (c) বণিক, কারিগর ও ভূস্বামীদের দল এবং (d) চাষি, দরিদ্র শ্রমিক, ভৃত্য ও দাস এই চারশ্রেণির মানুষ নিয়ে গড়ে উঠেছিল হরপ্পা সভ্যতার সমাজব্যবস্থা।


  • পুসলকর মত: অধ্যাপক পুসলকর হরপ্পার জনসমাজকে চারভাগে ভাগ করেছেন। যথা (a) শিক্ষিত সম্প্রদায়, (b) যােদ্ধাশ্রেণি, (c) বণিকশ্রেণি, (d) করিগর ও শ্রমিক শ্রেণি।


[2] সামাজিক অবস্থান: সিন্ধুর সমাজব্যবস্থায় এক কেন্দ্রীয় শাসকগােষ্ঠীর অবস্থান ছিল। যাদেরকে সাহায্য করার জন্য গড়ে উঠেছিল আমলাতন্ত্র। সমাজে বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শাসক এবং পুরােহিতদের অবস্থান ছিল সর্বোচ্চে। সমাজের এক শ্রেণি যুদ্ধবিগ্রহকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। পাশাপাশি বিত্তবানদের একাংশ ব্যাবসাবাণিজ্য ও নানা ধরনের কারিগরি শিল্পের সাথে যুক্ত ছিল। সমাজের একবারে নীচু তলায় অবস্থান ছিল চর্মকার, চাষি, শ্রমিক, ভৃত্য ও দাসদের।


[3] সমাজব্যবস্থার প্রকৃতি: সিন্ধু উপত্যকায় প্রাপ্ত অসংখ্য নারীমূর্তি দেখে ঐতিহাসিকদের অনুমান এখানে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ-ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। কিন্তু অপর একদল ঐতিহাসিক মনে করেন যে হরপ্লার সমাজব্যবস্থা ছিল পিতৃতান্ত্রিক। এই মতের সমর্থকরা মনে করেন দূরপাল্লার বাণিজ্য, কৃষির প্রসার এবং ধাতব শিল্পের বিকাশের মধ্যে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন মেলে।


[4] খাদ্যাভ্যাস: হরপ্লাবাসীরা গম ও যবের তৈরি খাবার খেত। তবে ধানের চাষও অল্পবিস্তার চালু থাকায় ভাতও তাদের খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়। এ ছাড়াও তারা বিভিন্ন পশুর মাংস, খেজুর, দুধ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করত। সিন্ধু উপত্যকায় প্রচুর পরিমাণে আঙুর ও আনারস উৎপাদিত হত। সিন্ধু অঞ্চলে তামার বড়শির নিদর্শন মেলায় মনে করা হয় মাছ ও কচ্ছপের মাংস তাদের খাদ্য ছিল।


[5] পােশাক-পরিচ্ছদ: হরপ্পাবাসীরা সুতি ও পশমের পােশাক পড়ত। তারা সাধারণত দুটি বস্ত্র খন্ড পোশাক হিসেবে ব্যবহার করত। একটি দেহের উধর্বাংশে অপরটি দেহের নিম্নাংশে ব্যবহার করা হত।


[6] অলংকার: সিল্ধুবাসী নারী, পুরুষ উভয়েই ধাতুর তৈরি অলংকার পড়ত। কানের দুল, চুরি, আংটি, মল, কোমরবন্ধ, মালা প্রভৃতি তারা অলংকার হিসেবে ব্যবহার করত। তারা চোখে সুরমা টানতে জানত। নারীরা বিভিন্নভাবে চুল বাঁধতেও শিখেছিল। তারা চুলে হাতির দাঁতের তৈরি চিরুনি লাগিয়ে রাখত। পাখার মতাে দেখতে এক ধরনের অলংকার তারা মাথায় ব্যবহার করত।


[7] সিল ও লিপি: সিন্ধু উপত্যকা জুড়ে তামা, ব্রোঞ্জ এবং পােড়ামাটির তৈরি প্রায় ২০০০ সিল আবিষ্কৃত হয়েছে। এই সিল গুলিতে এক ধরনের চিত্রলিপি খােদিত ছিল। এগুলির নাম হল সিন্ধু লিপি বা হরপ্পা লিপি।পন্ডিত ও গবেষকগণ এই লিপিগুলির সঙ্গে সুমেরীয় ও মিশরীয় লিপির মিল খুঁজে পেয়েছেন। তারা অনুমান করেছেন এই লিপি ডানদিক থেকে বামদিকে পড়া হত। কিন্তু এই লিপিগুলি এখনও পাঠোদ্ধার করা যায়নি।


[8] বিনােদন: সিন্ধু উপত্যকায় মার্বেল পাথরের তৈরি এক‌ ধরনের বল ও পাশা আবিষ্কৃত হয়েছে। ঐতিহাসিকদের ধারণা এপুলি ছিল সিল্ধুবাসীর খেলার সরঞ্জাম। প্রাপ্ত বেশ কিছু সিলমােহরে শিকারের দৃশ্য রয়েছে। এই শিকারের দৃশ্যগুলি থেকে অনুমান করা হয় যে তাদের বিনােদনের আর-এক মাধ্যম ছিল শিকার করা। চিত্তবিনােদনের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে নাচ, গান, ষাঁড় ও পাখির লড়াই আয়ােজিত হত।


আদিম আফ্রিকাবাসীর দেশান্তরের পরিচয় দাও।


আদিম আফ্রিকার ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করাে।


কী কী সুবিধার জন্য প্রাচীন কালে নদীকেন্দ্রিক সভ্যতাগুলি গড়ে উঠেছিল? নদীকেন্দ্রিক সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলােচনা করাে।


মেহেরগড় সভ্যতার পরিচয় দাও।


মেহেরগড়বাসীর জীবিকা কী ছিল? মেহেরগড় সভ্যতার ধ্বংসের কারণগুলি কী ছিল?


হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার বিবরণ দাও।


প্রবন্ধ লেখাে : হরপ্পা সভ্যতা